ক্রেপ কাপড় কি | ক্রেপ কাপড় কত প্রকার ও কি কি | ক্রেপ কাপড়ের ব্যবহার

ক্রেপ উইভ কাপড়ের পৃষ্ঠদেশ যথেষ্ট অমসৃণ হয়ে থাকে। এটি এ কাপড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য৷ কখনও কখনও পৃষ্ঠদেশ উঁচু-নিচু হয়ে কোঁকড়ানো মনে হয়৷ কাপড়ের মধ্যে বিভিন্নভাবে এই অবস্থা সৃষ্টি করা যায়৷ যেমনঃ ক্রেপ ইয়ার্ন বা ক্রেপ উইভ কিংবা বিশেষ ধরনের ফিনিশিং পদ্ধতি যেমন এমবোসিং এর মাধ্যমে ক্রেপ ইয়ার্ন এর বৈশিষ্ট্য হল ঐ সুতাতে খুব বেশি পাক থাকে৷

ক্রেপ উইভ
ক্রেপ উইভ

কাপড়ের টানা বা পড়েন সুতা হিসেবে এই ক্রেপ ইয়ার্ন ব্যবহার করে সাধারণ উইভ যেমন প্লেইন উইভের মাধ্যমে এই ক্রেপ ফেব্রিক তৈরি করা যায়৷ কাপড় তৈরি হওয়ার পর এই ক্রেপ ইফেক্ট ফুটে ওঠে৷ কাপড়কে এমবোসিং করা হয় একটি ধাতব রোলারের সাহায্যে যাতে বিভিন্ন ধরনের নকশা বা দাগকাটা থাকে৷

ক্রেপ উইভ কি?

বিভিন্ন গুণাগুণের সুতা ব্যবহার করে কাপড়ের পৃষ্ঠদেশ অমসৃণ উঁচু নিচু ও কোঁকড়ানো অবস্থা সৃষ্টি করে যে কাপড় তৈরি করা হয় তাকে ক্রেপ উইভ বলে৷ 

এটি একটি অলংকৃত ডিজাইন৷ এই কাপড় তৈরিতে ক্রেপ ইয়ার্ন অর্থাৎ খুব বেশি পাকবিশিষ্ট সুতা টানা অথবা পড়েন হিসেবে ব্যবহৃত হয়৷ এর অন্য একটি নাম ওটমিল৷

ক্রেপ উইভের বৈশিষ্ট্য?

  • ক্রেপ উইভের কাপড়ের পৃষ্ঠদেশ যথেষ্ট অমসৃণ হয়ে থাকে৷ এতে কোন কোনাকুনি রেখা দৃষ্ট হয় না৷
  • কাপড়ের পৃষ্ঠদেশ কখনও কখনও উঁচু নিচু কোঁকড়ানো ও খসখসে হয়৷
  • ক্রেপ ইয়ার্ন ব্যবহৃত হয় যা খুব বেশি পাকের হয়ে থাকে৷
  • কখনও কখনও কাপড় তৈরি হওয়ার পর এমবোসিং এর মাধ্যমে কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়৷
  • ক্রেপ উইভের ড্রাফটিং সাধারণত স্ট্রেইট ড্রাফট হয়ে থাকে৷

ক্রেপ কাপড় কত?

গঠন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে ক্রেপ উইভকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়ঃ
  • একটি উইভের উপর অন্য একটি উইভ অঙ্কন করে৷
  • সাটিন উইভ এর উপর ভিত্তি করে
  • মূল উইভকে ঘুরিয়ে বা উল্টিয়ে
  • প্লেইন উইভের উপর ভিত্তি করে

(ক) একটি উইভের উপর অন্য একটি উইভ অঙ্কন করেঃ 

যে কোন ২টি মূল উইভ এর একটির উপর অন্য একটি উইভ অঙ্কন করে যে ক্রেপ উইভেটি পাওয়া যায় এটাই এই পদ্ধতিতে বর্ণনা করা হলঃ
  • একই রিপিট সাইজের দুইটি মূল উইভ অঙ্কন করতে হবে৷ ধরে নেওয়া যাক একটি সাটিন ও অপরটি টুইল উইভ৷
  • এখন যে কোন একটি উইভকে অপরটির উপর বসিয়ে দিলে ক্রেপ উইভ তৈরি হয়ে যাবে৷
  • উৎপাদিত উইভটিতে মূল উইভের কোন রেগুলার ইফেক্ট পাওয়া যাবে না৷
  • ড্রাফটিং সাধারণত স্ট্রেইট ড্রাফটের হয়ে থাকে৷

(খ) সাটিন উইভ এর উপর ভিত্তি করেঃ

২টি মূল উইভের ১টি সাটিন উইভ অঙ্কন করে এর দন্ধনগুলোতে অন্য উইভের স্টিচিং বিন্দু ধরে যে ক্রেপ উইভ অঙ্কন করা যায় তা নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ

গঠনপ্রনালিঃ

  • একই রিপিট সাইজের দুইটি মূল উইভ একটি সাটিন ও অপরটি টুইল নেওয়া হল৷
  • প্রথম সাটিন উইভকে অঙ্কন করা হল৷
  • এখন সাটিন উইভের বন্ধনী বিন্দুতে টুইল এর প্রতিটি সুতার স্টাটিং পয়েন্ট ধরে সাটিন এর মতো সাজাতে হবে৷
  • যে নতুন উইভটি পাওয়া যাবে তাই ক্রেপ উইভ৷
  • ড্রাফটিং সাধারণত স্ট্রেইট ড্রাফটের হয়৷


(গ) মূল উইভকে ঘুরিয়ে বা উল্টিয়েঃ

মূল উইভ হিসেবে একটি মোটিফ অঙ্কন করে মোটিফটিকে এমনভাবে ঘুরাতে হবে যাতে উৎপাদিত ক্রেপটি বিপরীতমুখী উইভ হয়৷ নিম্নে তা বর্ণনা করা হলঃ

গঠনপ্রণালিঃ

  • প্রথমে মূল উইভ হিসেবে একটি ছোট মোটিফ অঙ্কন করা হল৷ ধরে নেওয়া যাক৷ ৪×৪ ঘরে একটি মোটিফ অঙ্কন করা হলো৷
  • অতঃপর মোটিফটিকে এমনভাবে ঘুরাতে হবে যাতে ৪ নং টানা সুতায় যেগুলো টানা ভাসা ৫ নং সুতায় সেগুলো পড়েন ভাসা হবে৷ এভাবে ৩,২,১ নং সুতায়  ডেগুলো টানা ভাসা সেগুলো ৬,৭ ও ৮ নং সুতায় পড়েন ভাসা হবে৷
  • উৎপাদিত উইভটি ৮×৪ রিপটি সাইজের হবে৷ এখন এই উইভটিকে উল্টিয়ে চিত্রেয় ন্যায় ৮×৮ রিপিট সাইজের নতুন উইভ গঠন করতে হবে৷
  • এভাবে মূল উইভকে ঘুরিয়ে বা উল্টিয়ে ক্রেপ উইভ গঠন করা হয়৷ ড্রাফটিং সাধারণত স্ট্রেইট ড্রাফট হয়৷


(ঘ) প্লেইন উইভের উপর ভিত্তি করেঃ

সাটিন এর উপর ভিত্তি করে ক্রেপ উইভ গঠনের পর অবশিষ্ট খালি ঘরগুলোতে প্লেইন ডিজাইন দ্বারা ঘরগুলো পূর্ণ করে এই ক্রেপ উইভ গঠন করা হয় যার বর্ণনা নিম্ন প্রদত্ত হলঃ

গঠনপ্রণালিঃ

  • প্রথমে রিপিটে সাইজ নির্দিষ্ট করতে হবে এবং রিপটের অর্ধেক সংখ্যাক টানা ও পড়েন সুতা নিয়ে একটি সাটিন উইভ অঙ্কন করতে হবে।
  • অতঃপর সাটিন উইভকে ক্রেপ ডিজাইনের রিপিট সাইজের মধ্যে পছন্দকৃত নিয়মে বিস্তৃত করতে হবে৷
  • চূড়ান্ত ডিজাইনের সমান একটি ক্রমাগত টুইল অঙ্কন করে সাটিন এর বন্ধনী বিন্দুতে টুইলের স্টাটিং পযেন্ট ধরে টুইল উইভকে সাজাতে হবে৷
  • এরপর অবশিষ্ট টানা সুতাগুলোর মাঝে চিত্রানুযায়ী প্লেইন উইভ বসাতে হবে৷ এখানে এই সুতাগুলো প্লেইন উইভের বিপরীত সুতা হিসেবে কাজ করবে যার প্রতিটি বন্ধনীই টানা ভাসা হবে৷
  • অতঃপর যে ডিজাইন ফুটে উঠবে তাই ক্রেপ উইভ৷
  • ড্রাফটিং সাধারণত স্ট্রেইট ড্রাফটের হবে৷

ক্রেপ উইভের ব্যবহার?

  • পোশাক হিসেবে যেমন শার্ট প্যান্ট ও কোট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • জ্যাকর্ড ডিজাইনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
  • শাড়ি বিশেষ ধরনের তোয়ালে ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 
  • কাপড়ের উপরিভাগে দানাযুক্ত হওয়ায় অলংকৃত কাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়৷ 
Textile BD

Founder and Editor of Textile BD. He is a Textile Blogger & Entrepreneur. He is working as a textile job in Bangladeshi companies.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন